যেভাবে ধরা পড়ল ধর্ষক রুবেল

গারো তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি রাফসান হোসেন রুবেল হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালত থেকে পালিয়ে যায়। পালাতে সক্ষম হলেও হাতকড়া খুলতে পারেনি সে। হাতকড়া আড়াল করতে হাতে কাপড় পেঁচিয়ে রাখে সে।রুবেল আদালত থেকে বের হয়ে হাতকড়া আড়াল করে শাঁখারিবাজারের দিকে যায়। পথে লেপ-তোষকের দোকান থেকে এক খণ্ড কাপড় নিয়ে হাতে পেঁচিয়ে নেয়। পরে শাখারিবাজার মসজিদে গিয়ে ঢোকে। সেখানে আসরের নামাজ পড়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভেতরে বসে থাকে।পরে বের হয়ে তার এক বন্ধুকে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে এক হাজার টাকা নেয়। সেখান থেকে গুলিস্তানে যায়। পরে গ্রামীণ পরিবহনের একটি গাড়িতে বাড্ডা চলে আসে। সেখান থেকে যায় ভাটারা নূরের চালায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা সাড়া না দেওয়ায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে রাত কাটায়। সকালে সে ঢাকার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সে বাসে করে টঙ্গীতে যায়। ভিড় এড়াতে সে বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে ঘোরাঘুরি করে। এর মধ্যে সে রাস্তায় চটপটি খায়। যেহেতু পুলিশ তাকে খুঁজছে তাই সে কোনো হোটেলে যায়নি।একপর্যায়ে কোথায় যাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে সন্ধ্যায় আবার বাড্ডা চলে আসে। সুবাস্তু টাওয়ারের কাছে একটি কালভার্টের পাশে বস্তিঘরের পাশে রাত কাটায়। সকালে আবার ঢাকার বাইরে যাওয়ার জন্য সুবাস্তু টাওয়ারের কাছে বাসস্ট্যান্ডে আসে।এর মধ্যে পুলিশ ম্যানুয়ালি রুবেলকে কোথায় কোথায় দেখা গেছে সেই খবর পায়। পুলিশ সাদা পোশাকে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি করছিল। মঙ্গলবার সকালে সুবাস্তু টাওয়ারের পাশের বাসস্ট্যান্ডে রুবেলকে দেখে বাড্ডা থানার এসআই বি এম মামুন দৌঁড়ে গিয়ে জাপটে ধরে তাকে। এসআই সাদা পোশাকে থাকায় তাকে ছিনতাইকারী বলে ফাঁসানোর চেষ্টা করে রুবেল। ততক্ষণে পুলিশের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে তারা রুবেলের হাতে পেঁচানো কাপড় খুলে ফেলে। রুবেলের হাতে হাতকড়া দেখিয়ে পুলিশ জনগণকে বিষয়টি অবহিত করে।