আবারও ঘটল শিশুহত্যা ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা

আবারও ঘটল শিশুহত্যা ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জান্নাতুল খাতুন নামের চার বছর বয়সি এক শিশুর লাশ উদ্ধার হলো একটি পরিত্যক্ত কূপ থেকে। পুলিশ বলেছে, অপহৃত হওয়ার ১৫ দিন পর শনিবার লাশ পাওয়া গেল এবং মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছে। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতেই জান্নাতুলকে অপহরণ ও খুন করা হয়েছে।
শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে। ছাগলে ফসল খওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের ঝগড়ার জের ধরে ১৪ বছর বয়সি মেয়ে শিশুর চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। মেয়েটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার পথরোধ করে তাকে ধরে নিয়ে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে এবং তার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
এসব ঘটনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। দুটি ক্ষেত্রেই শিশু দুজন নিরপরাধ এবং ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই তাদের সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও একজনকে প্রাণ দিতে হলো এবং একজনকে চরম অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হলো। নিরপরাধ শিশুকে হত্যা ও শিশুর ওপর নির্যাতনের এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে দেশের বিভিন্ন স্থানে, যা আমরা খবরে দেখে থাকি। এমন অনেক ঘটনা পত্রিকায় আসে না। সার্বিকভাবে এটা উদ্বেগজনক।
সিরাজগঞ্জে জান্নাতুলকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন হত্যাকারী। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ অপরাধীদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গাইবান্ধায় মেয়েশিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, বিচার প্রক্রিয়াও চলবে নিজস্ব গতিতে। এসবের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, আমরা চাই।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের বিরোধের খেসারত শিশুকে কেন দিতে হবে? প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিরপরাধ শিশুকে কেন বেছে নেওয়া হবে? আর মেয়েশিশুরাই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বেশি। এটা উদ্বেগজনক এবং সামাজিক অস্থিরতার প্রমাণ দেয়। এ ব্যাপারে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সমাজবিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসা উচিত। সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আরো তৎপর হওয়া উচিত।
জান্নাতুলের লাশ উদ্ধারের পর দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গাইবান্ধায় মেয়েটিকে নির্যাতনে প্রতিবাদে স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সরব হয়েছেন। এটা সামাজিক সচেতনতার একটি ইতিবাচক প্রকাশ। কিন্তু অপরাধ যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সকলের এগিয়ে আসার এখনই সময়।